৫টি কবিতা ।। ঐশিকা চক্রবর্তী

প্রস্থান

মাটি খুঁজে তুলে আনা গরল কলসিতে চুমুক দিয়েছি বলে
তুমি কি আমায় ছেড়ে চলে যাবে?
পিউপা-জীবন কাটাতে অভ্যস্ত মনটাকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে রেখে
সত্যি, তুমি চলে যাবে?
মুহূর্ত ছাড়া তোমায় কখনোই কিছু উপহার দিতে পারিনি,
পারিনি ভালোবাসাকে দাঁড়িপাল্লায় বসিয়ে হিসেব করতে নিরন্তর
করিনি সন্দেহ তৃতীয় কারুর জন্য,
হয়তো আমাদের রাত কাটেনি দূরভাষে বিনিদ্রযাপনে 
কিংবা কোনো সুদৃশ্য রেস্তোরাঁর লাল নীল আভিজাত্যে
উত্তর দিইনি তোমার কোনো চিঠির, কোনো গানের, কোনো কবিতার—
এমন অগোছালো, নিরাসক্ত মানুষকে পাশে নিয়ে হাঁটা মানে তো বোঝা বলো?
একটা তথাকথিত প্রেম করতে পারিনি এই কারণে হয়তো চলে যাওয়াই যায়,
অসূর্যম্পশ্যা ভবিষ্যতের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগের আদালতে বিদ্ধ করাই যায় 

তাও যদি হাত ধরে বলি, সামুদ্রিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে
“তীব্র সুখে থেকো”
তুমি কি ফিরে না তাকিয়েই চলে যাবে?

প্রয়োজন

প্রাচুর্যের প্রয়োজনে আমরা বেছে নিয়েছি নীরবতা
দারিদ্রের ধ্বংসস্তূপের ওপরে গড়েছি ইমারত
অপার অসহায়তা অবিন্যস্ত করেছে আমাদের বারংবার
তবু স্থবির থেকেছি স্বার্থান্বেষীর মতো।
যদি জানতে চাও পরিত্রাণের পথ?
একটি শ্লেষের হাসি দিয়ে বলবো—
আমরা আসলে অভিমন্যু
বুঝলে ভায়া? 

প্রার্থনা

বিচ্ছেদঘন বিজন বাতাসে অপার্থিব শোক
চাইছি যেন তোমার সাথে অসীম দেখা হোক!
মুখ তুলে যেই চাইবে নীরব অশ্রুসজল চোখ—
আঙুল ছুঁইয়ে বলব তোমায়—স্বর্গীয় সুখ হোক।
ফিরবে না আর জেনেই রাখি অদম্য এক রোখ,
আঁধার কেটে তোমার জীবন সকল আলো হোক!
চাইবো শুধুই ভালোটুকু, মন্দ বলুক লোক!
দুটি জীবন ভিন্ন পথে আলাদাই নয় হোক! 

প্রত্যাশা

কতদিন তুমি জোছনা দেখোনি মালা?
কতোদিন তুমি ভোরের আলোর রেণু—
গায়ে মেখে নিয়ে গিয়েছো চলে কাজে,
মনে কি পড়ে পাতার শব্দবেণু?

ভুলেই গেছো শালঠোঙা টকজল
কিংবা ধরো চায়ের মাটির ভাঁড়,
শান্তিতে কবে ভাতঘুমেরই শেষে 
নিবিষ্টমনে ভেঙেছো আদুর আড়!

কবে হেসেছো? কন্ঠ উচ্চকিত
কবেই বা কেঁদে ভাসিয়েছো শেষবেলা,
এখন তো খালি সময় বেঁধেই তুমি
মেপেই করো মাটিতে পা ফেলা!

তুমিই বলো সুখ কি আছে এতে?
লাগে না কি একঘেয়ে আর বোকা?
কুড়িয়েছ শেষ কবে জোনাকজ্বলে
মুঠোয় বন্দি রাতফুল থোকা থোকা! 

একদিন ফের করবো দেখা ঠিক 
শিখিয়ে দেবো লাটাইয়ের সুতো ধরা,
জীবনের এই কুমির ডাঙা খেলায়
হতেই দেবোনা তোমাকে যে আধমরা!

দৌড়ে পেরোবো গোল্লাছুটের মাঠ
গান গাইবো—মেঘমল্লার সাথে, 
বাঁচতে গিয়ে যন্ত্র নাই বা হলে
স্বাদটুকু মেখো ঝাল পান্তার ভাতে! 

প্রতিষ্ঠা

দুঃখগুলো কাজল আঁকে চোখে
আয়নামুখে চাপাই জরির শাড়ি
তোমার সাথে হয়তো হবে দেখা
কিংবা রবে সাতজন্মের আড়ি।
তোমায় দিতাম বাউলিয়া এক আকাশ
মান ভাঙাতে আসতে যদি পরে,
তোমার জন্য অপেক্ষা নেই কোনো
খিল দিয়েছি আঁধার একা ঘরে।

চিঠিগুলো সব পুড়িয়ে ফেলা হলে
ধুয়ে ছিলাম উঠোন জোড়া ছাই—
আঘাতশ্রান্ত ভালোবাসার শেষে
লোকদেখানো চিহ্ন রাখতে নাই!


ঐশিকা চক্রবর্তী কবি। আর আহমদ ডেন্টাল কলেজে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। শখের সাহিত্যিক, গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ নিয়মিত লেখে। আড়ংঘাটা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।


 

menu
menu